সকাল ও বিকেলের নাস্তায় পরিমিতিবোধ
ঈদের দিনটি হালকা ও সহজপাচ্য খাবার দিয়ে শুরু করা ভালো। নাস্তায় সেমাই, পায়েস বা কাস্টার্ড থাকলেও তা হতে হবে পরিমিত। মিষ্টান্ন তৈরিতে সাদা চিনির বদলে ব্রাউন সুগার, গুড় বা মধু ব্যবহার করা বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্টেভিয়া একটি নিরাপদ বিকল্প হতে পারে। এছাড়া নাস্তায় মৌসুমি ফল বা ফ্রুট সালাদ অন্তর্ভুক্ত করলে শরীর প্রয়োজনীয় ফাইবার ও ভিটামিন পাবে।
দুপুর ও রাতের প্রধান খাবার
ঈদের প্রধান খাবারে সাধারণত পোলাও, বিরিয়ানি বা লাল মাংস থাকে। যাদের শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তারা সাদা ভাতের সঙ্গে অল্প পরিমাণে মাংস খেতে পারেন। প্রোটিনের বিকল্প হিসেবে মাছ বা ডিম রাখা যেতে পারে। আইবিএস রোগীদের ক্ষেত্রে কাঁচা সালাদ বা দুধজাতীয় খাবার এড়িয়ে সামান্য টক দই গ্রহণ করা নিরাপদ।
স্বাস্থ্যকর রান্নার কৌশল
অতিরিক্ত তেল বা ঘি দিয়ে মাংস ভুনা করার চেয়ে বেক, গ্রিল বা স্টিম করা খাবার বেছে নেওয়া উচিত। মাংস রান্নার আগে লেবুর রস, টক দই ও আদা-রসুন দিয়ে ম্যারিনেট করে নিলে তা সহজে হজম হয় এবং ক্যালরি গ্রহণ কম হয়। রান্নায় ঘি ও মাখনের ব্যবহার সীমিত রাখা ভালো।
হজম সহায়তায় পানীয় ও সবজি
কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে প্রতিদিন অন্তত ১০০ গ্রাম সবজি বা সালাদ খাওয়া জরুরি। ভারী খাবারের পর কোল্ড ড্রিঙ্কস বা কৃত্রিম পানীয় এড়িয়ে বোরহানি, লেবু পানি বা ডাবের পানি পান করুন। ইসুবগুলের ভুসি গ্রহণ করাও হজমের জন্য বেশ উপকারী।
সতর্কতা ও শারীরিক সক্রিয়তা
খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া ঠিক নয়; অন্তত ২ ঘণ্টা বিরতি রাখা উচিত। রাতে কিছুটা হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়ামকরলে অতিরিক্ত ক্যালরি বার্ন হয় এবং শরীর চাঙ্গা থাকে। মনে রাখবেন, সুস্থ শরীরেই উৎসবের প্রকৃত আনন্দ নিহিত।