শুক্রবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঈদের তকবিরে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। জানা গেছে, জেলার অন্তত ছয়টি উপজেলার প্রায় ৫০টি গ্রামে আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নতুন পোশাকে সজ্জিত মুসল্লিরা দলে দলে স্থানীয় ঈদগাহ ও মসজিদে অংশ নেন।
শহরসংলগ্ন মির্জাপুরের চারুবাগান এলাকায় বাবে মদিনা জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া বিরামপুর উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের আয়রা বাজার, জোতবানি ইউনিয়নের খয়েরবাড়ি-মির্জাপুর এবং চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতাড়া গ্রামের রাবারড্যাম এলাকা ও জগন্নাথপুর গ্রামের চিরি নদীর পাড়ে সকাল ৯টায় পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
কাহারোল ও বিরল উপজেলাতেও একাধিক স্থানে আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা সদরের জয়ানন্দ গ্রাম, ১৩ মাইল এলাকা ও পশ্চিম বনগাঁ জামে মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বীরগঞ্জ উপজেলার কিছু এলাকাতেও ছোট পরিসরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ আদায় হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৭ সাল থেকে দিনাজপুরের একটি অংশ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছে।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিশেষ মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করা হয়। বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো মেলা ও শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসও লক্ষ করা গেছে।
এক মুসল্লি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে আসছি। এটি আমাদের কাছে ইবাদতের একটি অংশ।”
তবে দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ঈদ উদযাপন করা হলেও দিনাজপুরের এসব এলাকায় ভিন্নধর্মী এ প্রথা প্রতিবছরই উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়ে আসছে।