৩ নভেম্বরের ভোটে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি টেক্সাসের সিনেট আসনে কেন প্যাক্সটনকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো। নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাঁর জয়ে অঙ্গরাজ্যব্যাপী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ১৯৯৪ সাল থেকে চলা পরাজয়ের ধারা ভেঙেছে।
জর্জিয়ার গভর্নর পদে জয় পেয়েছেন আটলান্টার সাবেক মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমস। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হতে যাচ্ছেন। এই পরিবর্তন অঙ্গরাজ্যের প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেন্দ্রীয় কংগ্রেসে ক্ষমতার পালাবদল এবং গভর্নর নির্বাচনের ফলের প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব আলাদা।
ভোটে পরাজয়ের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, ইরান যুদ্ধ ও দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ ছিল বলে এপির জাতীয় ভোটার জরিপে উঠে এসেছে। ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা ভালো কাজ করেছে। তারা কঠোর লড়াই করেছে।’ তবে পরাজয়কে নিজের বিরুদ্ধে রায় হিসেবে মানতে চাননি তিনি; হারের দায় দিয়েছেন দলীয় প্রার্থীদের। এই প্রতিক্রিয়া আগামী দুই বছরে সমঝোতার নিশ্চয়তা দেয় না। কোন ইস্যু ভোটের ফলাফলে কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা অঙ্গরাজ্য ও আসনভেদে বিশ্লেষণ করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে ভোট হয়নি। ট্রাম্পের নির্ধারিত মেয়াদ ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। নবনির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যদের মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। ফলে ভোটের ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্ব বা বিদ্যমান আইন বদলে যাচ্ছে না। পরিবর্তন কার্যকর হবে নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার পর।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর সভাপতিত্ব পাওয়ার অবস্থানে থাকবেন। কোন বিল আলোচনায় উঠবে, কোন বিষয়ে শুনানি হবে এবং প্রশাসনের কোন সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করা হবে, সেসব নির্ধারণে তাঁদের প্রভাব বাড়বে। প্রতিনিধি পরিষদেও দলটি স্পিকার নির্বাচন ও আইনপ্রণয়নের কার্যসূচি নিয়ন্ত্রণের সুবিধা পাবে।
বড় প্রভাব পড়বে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগে। ফেডারেল বিচারক, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটরা শুনানি, ভোট ও অনুমোদনের মাধ্যমে ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থীদের আটকে দিতে পারবেন। তবে আগে অনুমোদন পাওয়া বিচারপতি বা কর্মকর্তারা নির্বাচনের এই ফলের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ হারাবেন না।
আইনপ্রণয়নেও বাড়বে দরকষাকষি। সাধারণভাবে একটি বিলকে দুই কক্ষে পাস হয়ে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর পেতে হয়। ট্রাম্প ভেটো দিলে তা অতিক্রম করতে উভয় কক্ষে ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। আবার সিনেটে অধিকাংশ সাধারণ বিলের বিতর্ক শেষ করতে ৬০ ভোটের নিয়ম রয়েছে। তাই সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েই ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের সব কর্মসূচি আইনে পরিণত করতে পারবেন না।
বাজেট ও সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ক্ষমতা ট্রাম্পের ওপর বাস্তব চাপ তৈরি করবে। কর, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন কার্যক্রম, প্রতিরক্ষা কিংবা বৈদেশিক সহায়তার অর্থায়ন নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন বাড়তে পারে। অর্থ বরাদ্দের শর্ত ও পরিমাণ নিয়ে তাঁরা প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। সমঝোতা ব্যর্থ হলে অর্থায়ন নিয়ে অচলাবস্থার ঝুঁকিও থাকবে।
প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগও বাড়বে। কংগ্রেসের কমিটিগুলো শুনানি আয়োজন, নথি তলব এবং কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য নেওয়ার ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে। ফলে সরকারি ব্যয়, স্বার্থের সংঘাত বা নীতি বাস্তবায়ন নিয়ে অনুসন্ধান বাড়তে পারে। তবে কমিটির তদন্ত, অপরাধের অভিযোগ এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া পৃথক বিষয়।
অভিশংসন নিয়েও একই সতর্কতা জরুরি। প্রতিনিধি পরিষদ সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসনের অভিযোগ অনুমোদন করতে পারে। কিন্তু পদচ্যুতির জন্য সিনেটে বিচারে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন। ফলে দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপসারণের ক্ষমতা দিচ্ছে না। এটি আলাদা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, যার ফল নির্ভর করবে অভিযোগ, প্রমাণ ও ভোটের ওপর।
ট্রাম্প আইনের সীমার মধ্যে নির্বাহী ক্ষমতা ও পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার দায়িত্ব ধরে রাখবেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের কর্মসূচি আটকে দেওয়া, সংশোধন দাবি এবং নিজেদের বিকল্প অগ্রাধিকার সামনে আনার সুযোগ পাবেন। তাই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে একদলীয় নিয়ন্ত্রণের বদলে বিভক্ত ক্ষমতার বাস্তবতা।