তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেই হবে না, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেও এডিস মশা জন্মাতে পারে। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বংশালে ঢাকা-৭ আসনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে মাজেদ সরদার বিপণি বিতানের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে গুরুত্ব
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিধনের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশার জন্ম ও বিস্তারের সুযোগ বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, এডিস মশা নোংরা পানির পাশাপাশি পরিষ্কার পানিতেও জন্মাতে পারে। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে মশার প্রজনন হতে পারে। তাই নাগরিকদের নিজ নিজ জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। জনগণ সচেতন হলে এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
অবহেলায় ব্যবস্থা
আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেওয়া। এজন্য রাস্তা পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ ও মশক নিধনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো কর্মকর্তা বা ঠিকাদারের দায়িত্বে অবহেলার কারণে যদি মশার প্রজননস্থল তৈরি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ শেষ করার তাগিদ
পুরান ঢাকার জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে। কোনো ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার কারণে নগরের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে। তাই নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে নাগরিকদের আরও সচেতন হতে হবে।
বুড়িগঙ্গা দূষণমুক্ত করার পরিকল্পনা
বুড়িগঙ্গা নদী দূষণমুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করা গেলে মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সহজ হবে। একই সঙ্গে নদী ও খালগুলো পরিষ্কার রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, অন্যায় কিংবা জনগণের ওপর জুলুম করা যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।