ঝলমলে ত্বক ধরে রাখতে যেখানে অনেকেই দীর্ঘ স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করেন, সেখানে কারিশমার সৌন্দর্যচর্চার গল্পে রয়েছে পুরোনো এক ঘরোয়া উপাদান- ঘি।
এক সাক্ষাৎকারে নিজের দাদির সৌন্দর্যচর্চার স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। কারিশমা জানান, ছোটবেলায় দাদিকে দেখেই সৌন্দর্য সম্পর্কে তার অনেক ধারণা তৈরি হয়েছিল। দাদি খুব বেশি প্রসাধনী ব্যবহার করতেন না; বরং সহজ-সরল ঘরোয়া পরিচর্যায় বিশ্বাসী ছিলেন।
কারিশমার ভাষ্য, তার দাদি ঘি খাওয়ার পাশাপাশি মুখেও ব্যবহার করতেন। সেই সময়ের সৌন্দর্যচর্চা ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক ও সহজ। আলাদা করে নানা ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের বদলে ঘরে থাকা বিভিন্ন উপাদানের ওপরই নির্ভর করতেন তারা।
ত্বকে ঘি কীভাবে কাজ করতে পারে?
ত্বকের যত্নে ঘি ব্যবহারের প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যচর্চায় দীর্ঘদিনের। ঘিতে থাকা চর্বিজাতীয় উপাদান ত্বকের ওপর একটি আবরণ তৈরি করতে পারে, যা আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। ফলে অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ অনুভূত হতে পারে।
তবে ঘিকে কোনো অলৌকিক স্কিনকেয়ার উপাদান হিসেবে দেখার কারণ নেই। ত্বকের ধরন ও সংবেদনশীলতার ওপর এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে ব্রণপ্রবণ বা তৈলাক্ত ত্বকে মুখে সরাসরি ঘি ব্যবহার করলে কারও কারও সমস্যা বাড়তে পারে।
তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে মুখের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালা, চুলকানি, লালচে ভাব বা অন্য কোনো অস্বস্তি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
রাতে অল্প পরিমাণে ব্যবহার
খুব শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে কেউ চাইলে রাতে অল্প পরিমাণ ঘি শুধু শুষ্ক অংশে ব্যবহার করে দেখতে পারেন। সকালে উঠে মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত।
তবে পুরো মুখে মোটা করে ঘি লাগিয়ে দীর্ঘক্ষণ রেখে দেওয়া সবার জন্য উপযোগী নয়। বিশেষ করে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা থাকলে নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
পুরোনো রূপচর্চায় বাড়ছে আগ্রহ
আধুনিক স্কিনকেয়ারে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা ও স্কিন ব্যারিয়ার সুস্থ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সহজ রুটিন ও ঐতিহ্যবাহী উপাদান নিয়েও মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে দাদি-নানিদের সময়কার অনেক ঘরোয়া পরিচর্যার পদ্ধতিও নতুন করে আলোচনায় আসছে।
তবে কোনো তারকার সৌন্দর্যচর্চা দেখে তা হুবহু অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। নিজের ত্বকের ধরন বুঝে যেকোনো উপাদান ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
শুষ্ক ত্বকে যেভাবে ব্যবহার করবেন
ত্বকের নির্দিষ্ট অংশ অতিরিক্ত শুষ্ক হলে অল্প পরিমাণ ঘি ব্যবহার করে দেখা যেতে পারে। পরিষ্কার ত্বকে আঙুলের ডগায় সামান্য ঘি নিয়ে শুষ্ক জায়গায় পাতলা করে লাগানো যেতে পারে। কিছুক্ষণ পর মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো।
কারণ সুন্দর ত্বকের সবচেয়ে বড় রহস্য কোনো একটি ঘরোয়া পদ্ধতি নয়; বরং নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক স্কিনকেয়ার।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া