দীর্ঘ অপেক্ষার পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রত্যাবর্তনের রাতটাও হলো দারুণ স্মরণীয়। ওল্ড ট্রাফোর্ডে অভিষেককারী সাবাহ এফকেকে একতরফা ম্যাচে ৪-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতায় নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে ‘রেড ডেভিল’রা। একই রাতে ঘরের মাঠে বোডো/গ্লিমটকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখও।
চ্যাম্পিয়নস লিগে গত দুই মৌসুমে অংশ নিয়ে পারেনি ইউনাইটেড। গত মৌসুমে তো ইউরোপের কোনো প্রতিযোগিতাতেই খেলার সুযোগ হয়নি ইংলিশ ক্লাবটির। ফলে ইউরোপের শীর্ষ মঞ্চে ফেরার ম্যাচটি ছিল তাদের জন্য বিশেষ। মাঠের পারফরম্যান্সেও সেই প্রত্যাশার ছাপ রেখেছে ইউনাইটেড।
প্রিমিয়ার লিগে অবশ্য এখনো স্বস্তিতে নেই দলটি। প্রথম তিন ম্যাচে হাল সিটি, ইপসউইচ ও এভারটনের বিপক্ষে তাদের সংগ্রহ মাত্র চার পয়েন্ট। তবে সাবাহর বিপক্ষে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে ক্যারিকের দল।
২৭ মিনিটে প্যাট্রিক ডরগুর নিখুঁত ক্রস থেকে পা ছুঁইয়ে ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেন মাতেউস কুনিয়া। বিরতির আগে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে আরও দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকেরা। টিলেমান্সের পাস থেকে অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ করেন দ্বিতীয় গোল। এরপর এমবেউমোর পাস পেয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান ৩-০ করেন বেনইয়ামিন সেসকো।
বিরতির পরও থামেনি ইউনাইটেডের আক্রমণ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সাবাহর গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ নিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। জিরকজির ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণ সামলাতে গিয়ে পকাতিলেভের ভুলেই আসে গোলটি। এরপর আর কোনো গোল না হলেও ৪-০ ব্যবধানেই সহজ জয় নিশ্চিত করে ইউনাইটেড।
আগামী রবিবার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ডার্বি। তার আগে বড় ব্যবধানের এই জয় ইউনাইটেডকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেই মনে করছেন সমর্থকেরা।
এদিকে বায়ার্ন মিউনিখও প্রথমার্ধে নিজেদের সেরা ছন্দে ছিল না। বোডো/গ্লিমটের জমাট রক্ষণ ভেঙে গোলের দেখা পায়নি জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
৪৭ মিনিটে জামাল মুসিয়ালার গোলে বায়ার্নের গোল উৎসবের শুরু। ৬০ মিনিটে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হ্যারি কেইন। চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্নের হয়ে এটি তার ৩৯ ম্যাচে ৩৪তম গোল।
এরপর আলফনসো ডেভিসের দুর্দান্ত হাফ-ভলিতে ম্যাচের স্কোর হয় ৩-০। শেষ দিকে মাইকেল ওলিসে নিজের ঝলক দেখান। পরপর দুই গোল করে বায়ার্নের জয়কে বড় উৎসবে পরিণত করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।
দিনের অন্য ম্যাচে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকেই বড় জয় পেয়েছে ইতালির কোমো। ঘরের মাঠে জার্মান ক্লাব লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে তারা।