বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সভায় নগর ব্যবস্থাপনা, যান চলাচলে শৃঙ্খলা, সড়ক নিরাপত্তা এবং বর্তমান বাস্তবতার আলোকে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর আলোকে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, এই নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচলে শৃঙ্খলা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং কার্যক্রম পরিচালিত হলে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমা হবে।
এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বিধিমালা সময়োপযোগী করে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ই-রিকশা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এজন্য প্রচলিত বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার কথাও জানান তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন এবং চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর সংশ্লিষ্ট কিছু ধারা ও তফসিল ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে।
এর আগে, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করে। পরে ১৭ ডিসেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান ই-রিকশা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত দেন।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।