সোমবার (১৩ এপ্রিল) যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফ হোসেন গ্যালারিতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে ‘সিরিমনি অন সাবমিশন অফ ইনটেন্ট টু অ্যাপ্লাই ফর ব্যাক অ্যাক্রেডিটেশন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যবিপ্রবি দেশের অন্যতম সেরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সহায়তা করবে। বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি) থেকে স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে যবিপ্রবি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এটা আসলে প্রশংসনীয়। আশা করি ভবিষ্যতে যবিপ্রবির প্রত্যেকটি বিভাগ বিএসির স্বীকৃতি অর্জন করবে এবং যবিপ্রবি শুধু দেশ নয় বিশ্বের সঙ্গেও পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, তোমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি রিসোর্সফুল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে দেশে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই জবাবদিহিতার একটি পরিবেশ সৃষ্টি হোক। আশা করি তোমরা নিজেদেরকে দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
এ সময় মন্ত্রীপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি বলেন, তরুণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে যবিপ্রবি শুধু দেশ নয় বিশ্বেও মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, নড়াইল ২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক. ড. মোসাম্মাৎ আসমা বেগম, আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও যবিপ্রবি বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের স্বীকৃতির জন্য কিভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তার তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. কে এম আনিস উল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা নিয়ে প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. ফারহানা ইয়াসমিন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, দপ্তর প্রধানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন।
প্রসঙ্গত, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যবিপ্রবিই প্রথম, যার ১৪টি বিভাগ বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) স্বীকৃতির জন্য একযোগে আবেদন করছে। তারই উপলক্ষে ‘সিরিমনি অন সাবমিশন অফ ইনটেন্ট টু অ্যাপ্লাই ফর ব্যাক অ্যাক্রেডিটেশন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার পথ আরও প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।