ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচুয়ানের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশে অস্বাভাবিক মাত্রায় বজ্রপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা তার অভিজ্ঞতায় বিরল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ আট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাত অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা প্রাণহানির পাশাপাশি শরীরে মারাত্মক আঘাত সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে দগ্ধ হওয়া, হাড় ভাঙা, শ্রবণ সমস্যা, খিঁচুনি এমনকি হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সময়ে তাপমাত্রার ওঠানামা, বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং মেঘের ভেতরের ঘর্ষণের কারণে বজ্রপাতের প্রবণতা বেড়ে যায়, যা কালবৈশাখী মৌসুমে আরও বেশি দেখা যায়।
এ অবস্থায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা জায়গা, মাঠ, গাছের নিচে বা টিনের ঘরে না থেকে দ্রুত শক্ত ও পাকা ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া উচিত। নদী, পুকুর, সুইমিং পুলসহ পানির কাছাকাছি থাকা ঝুঁকিপূর্ণ।
এছাড়া বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এড়িয়ে চলা, ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকা এবং জানালা-দরজা থেকে দূরে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ বজ্রধ্বনির অন্তত ৩০ মিনিট পর বাইরে বের হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।