ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় ঘরে কিংবা বাইরে—উভয় অবস্থানেই কিছু নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
নির্দেশনাগুলো হলো—
বজ্রপাতের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং কিংবা পাইপ স্পর্শ না করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি ভবনে বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। খোলা জায়গায় অনেক মানুষ একসঙ্গে থাকলে বজ্রপাত শুরু হলে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে দূরে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তাহীন বাড়িতে সবাইকে এক কক্ষে না থেকে আলাদা কক্ষে থাকার কথা বলা হয়েছে। খোলা জায়গায় বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং গাছ থেকে অন্তত চার মিটার দূরে থাকতে হবে।
ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতে আহতদের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শকের মতো চিকিৎসা দিতে হবে।
এপ্রিল-জুন সময়ে আকাশে মেঘ দেখা গেলে দ্রুত ঘরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। বাইরে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া জরুরি।
ঘরের ভেতরে থাকলে জানালা বা বারান্দার কাছাকাছি না গিয়ে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে রাবারের জুতা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উঁচু গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার, ধাতব বস্তু বা মোবাইল টাওয়ার থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে প্লাস্টিক বা কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু স্থান কিংবা জলাশয়ের কাছাকাছি থাকা বিপজ্জনক—তাই এসব এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। শিশুদের খোলা মাঠে খেলাধুলা থেকেও বিরত রাখতে বলা হয়েছে।
যদি খোলা মাঠে আটকা পড়েন, তাহলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে বসে মাথা নিচু করে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গাড়িতে থাকলে ধাতব অংশের সঙ্গে শরীরের সংযোগ না ঘটিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া বজ্রপাতের সময় মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নিচে অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, সচেতনতা ও দ্রুত সিদ্ধান্তই বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই আবহাওয়া খারাপ হলে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।