আজ (শুক্রবার) বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে বিশ্বকাপের প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ডলার পাবে ক্লাবগুলো। ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্ট খেলবে ১২৪৮ ফুটবলার। যার বিনিময়ে ক্লাবগুলোর মধ্যে রাজস্বের অংশ বণ্টন করবে ফিফা। পাশাপাশি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ৯০৫টি ম্যাচে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোকেও এই অর্থ প্রদান করা হবে।
প্রথমবারের মতো ক্লাবগুলোকে নিজেদের রাজস্ব থেকে এত বিস্তৃত পরিসরে অর্থপুরস্কার দেওয়ার পথে হাঁটছে ফিফা। বাছাইপর্বে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়রা ওই সময়ে যে ক্লাবে নিবন্ধিত ছিলেন, সেই ক্লাবগুলো ম্যাচপ্রতি ২৩৬০ ডলার করে পেয়েছে। একইভাবে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ক্লাব এই কর্মসূচির আওতায় অর্থ পাবে, কারণ ২০৯টি জাতীয় দল বাছাইপর্বে অংশ নিয়েছে। কেবল ইরিত্রিয়া ও রাশিয়া (আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ স্থগিত) বাছাইয়ে অংশ নেয়নি।
এই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ১৯ খেলোয়াড় বিভিন্ন দেশের স্কোয়াডে আছেন। এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০১৮ রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও ফিফার ক্লাব পেমেন্ট কর্মসূচি থেকে সর্বোচ্চ অর্থ পেয়েছিল সিটি। ম্যানচেস্টার সিটি আগের দুটি আসরে যথাক্রমে ৪.৬ মিলিয়ন ও ৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিল। তখন প্রতিটি টুর্নামেন্টের জন্য তহবিলের পরিমাণ ছিল ২০৯ মিলিয়ন ডলার। এবার পকেট আরও ভারী হবে সাবেক ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের।
ফিফা থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার পাওয়ার পেতে পারে বায়ার্ন মিউনিখ (১৮ ফুটবলার বিশ্বকাপে খেলবে), প্যারিস সেইন্ট জার্মেই এবং আর্সেনালও (১৬ জন)। ইউরোপের বাইরে আল-হিলাল সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্বকারী ক্লাব, যাদের ১২ জন খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছে বিশ্বকাপে। এই তালিকায় ক্রিস্টাল প্যালেস (১২) লিভারপুল (১১) ও রিয়াল মাদ্রিদকেও (১০) ছাড়িয়ে গেছে।
২০১০ বিশ্বকাপ থেকে জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোর জন্য অর্থ প্রদান কর্মসূচি চালু করছে ফিফা। এর পেছনে ছিল দুই বছর আগে গঠিত প্রভাবশালী ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে হওয়া আলোচনার ফলাফল। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে এই তহবিলের পরিমাণ ছিল ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১৪ ব্রাজিল আসরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩ সালে এই বিশ্বকাপের জন্য ফিফার ক্লাব তহবিল ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারে নির্ধারণ করা হয়।