শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে পরিচালিত এই অভিযানে একটি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয় এবং অন্যদের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বিএসটিআই সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের পরিমাপে অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহরাব হোসেন। শহরের মেসার্স শতাব্দী ফিলিং স্টেশনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া মাটিডালী ও ছিলিমপুর এলাকার আরও কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে মজুত ও পরিমাপ যাচাই করা হয়। পরিদর্শিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল-মেসার্স বগুড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন, মেসার্স এম এইচ খান অ্যান্ড পার্টনার, মেসার্স বগুড়া ফিলিং স্টেশন এবং মেসার্স মিতালী ফিলিং স্টেশন।
অভিযানে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা না পড়লেও সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট মেহরাব হোসেন স্পষ্ট নির্দেশনা দেন-স্টোরেজে তেল থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখা যাবে না এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করা যাবে না। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া জ্বালানি বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই-এর প্রকৌশলী প্রান্তজিত সরকার ও ফিল্ড অফিসার শাহানূর হোসেন খান। তারা বিশেষ মেট্রোলজি যন্ত্রের মাধ্যমে তেলের সঠিক পরিমাপ যাচাই করেন।
বিএসটিআই বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জহুরুল হক জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে কোনো ধরনের কারচুপি, মজুতদারি বা পরিমাপে অসততা বরদাস্ত করা হবে না।
এই অভিযান ভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি সৃষ্টি করলেও প্রশ্ন থেকেই যায়-এমন নজরদারি কতটা ধারাবাহিকভাবে চালানো হবে। নিয়মিত তদারকি বজায় থাকলে ভবিষ্যতে ভোক্তারা জ্বালানির সঠিক পরিমাপ নিয়ে আরও নিশ্চিন্ত হতে পারবেন।