ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক বার্তায় জানা গেছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ওয়াশিংটন একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে।
দুই মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ হরমুজ প্রণালী এখনও বন্ধ রয়েছে। বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই সরবরাহ হয় পথটি দিয়ে। প্রণালীটি বন্ধ থাকার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, বেড়েছে তেলের দাম এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি।
৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধের জবাবে ইরান এখনও প্রণালীটি বন্ধ করে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি ছাড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর সর্বোচ্চ।
ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর থেকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম, যার ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং জ্বালানির খুচরা মূল্য অত্যধিক পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে ইরান বুধবার সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজে অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে তারা অভূতপূর্ব সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এই হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার পরিকল্পনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি পরিকল্পনা হলো হরমুজ প্রণালীর একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া। এমন অভিযানে স্থলবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখছে, যেখানে সংঘাত কমে আসতে পারে। সে লক্ষ্যে পররাষ্ট্র দফতরের বার্তায় অংশীদার দেশগুলোকে ‘মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ (এমএফসি) নামে একটি নতুন জোটে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই জোটের উদ্দেশ্য হবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।