জার্মান ফেডারেল পররাষ্ট্র দপ্তরের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হারমান এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠক চলাকালীন সফররত কর্মকর্তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ।
আলোচনার সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে, যা তাদের মতে উভয় দেশের জন্য পারস্পরিক সুবিধা বয়ে এনেছে।
তারা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন, জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান এবং শান্তি ও নিরাপত্তায় সহযোগিতা বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
হার্টম্যান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারিত ও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক অন্যান্য খাতে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করতে পারে।
উভয় পক্ষ ক্রমবর্ধমান অংশীদারি আরো গতি আনতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং উচ্চ-পর্যায়ের সফর বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছে।
জার্মান কর্মকর্তা ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
শামা বহুপাক্ষিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শক্তিশালী ও টেকসই আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় জোর দেন।
উভয় পক্ষ বৃহত্তর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সহজতর করতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের ওপর জোর দিয়েছে।
আলোচনায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলিও উঠে আসে এবং উভয় দেশ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অধিকতর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়।
এর আগে, হার্টম্যান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা জোরদার করার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন।