জানা গেছে, বাগেরহাট শহরে বসবাস করলেও শখের বশে ইউটিউব দেখে আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের কৌশল শেখেন জাকির শেখ। পরে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি জাতের তরমুজ—স্মার্ট বয়, কানিয়া ও সূর্য ডিম—চাষ শুরু করেন। এ অঞ্চলে আগে এ ধরনের তরমুজের চাষ তেমন না হলেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে তিনি এ উদ্যোগ নেন।
মো. জাকির হোসেন বলেন, "গাছের বয়স এখন মাত্র ২৫ দিন। এরই মধ্যে অধিকাংশ গাছে ফুল এসেছে এবং কিছু গাছে ফলও ধরেছে। এটি মূলত শিক্ষামূলক ও পরীক্ষামূলক চাষ হিসেবে শুরু করলেও ফলন দেখে আমি খুবই উৎসাহিত। আশা করছি, এ চাষ থেকে লাভবান হব এবং অন্যরাও তরমুজ চাষে আগ্রহী হবেন।"
তিনি জানান, মালচিং পদ্ধতিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি তরমুজ গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রতিটি গাছে দুটি করে ফল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসেবে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি তরমুজ উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। তবে ভালো মানের ফলন নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ফল অপসারণ করা হবে।
জাকির হোসেন আরও জানান, তরমুজ ক্ষেতের চারপাশে কাঁচামরিচ, ওলকচু, উন্নত জাতের পেঁপে, টমেটোসহ আরও কয়েক ধরনের পরীক্ষামূলক ফসলের চাষ করা হয়েছে। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, "প্রথমবার চাষ করায় খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে বর্তমান অবস্থায় গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দেখে মনে হচ্ছে, সব খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ করা সম্ভব হবে।"
স্থানীয় কৃষকদের মতে, জাকির হোসেনের এই উদ্যোগ সফল হলে বাগেরহাট অঞ্চলেও বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের তরমুজ চাষের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।