এছাড়া ‘মাইগ্রেশন অবজারভেটরি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ খুচরা বিক্রয় খাতের প্রায় ৩৭ লাখ কর্মসংস্থানের মধ্যে ১৭ শতাংশ স্থান পূরণ করেছেন অভিবাসীরা। রাজধানী লন্ডনে এই চিত্র আরও প্রকট, যেখানে হসপিটালিটি খাতের প্রায় ৬৪ শতাংশ কর্মীই বিদেশি বা অভিবাসী। এই পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করে দেশটির নীতি-নির্ধারক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণে ব্রিটিশ তরুণদের কাজের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে বলে দাবি করছেন দেশটির অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপের মতে, কম দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিকদের এই ব্যাপক আগমন যুক্তরাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিদেশি কর্মীরা কম মজুরিতে কাজ করতে রাজি হওয়ায় স্থানীয় তরুণরা বাজার থেকে ছিটকে পড়ছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ৩৪ বছরের কম বয়সী প্রায় ৯ লাখ ৫৭ হাজার তরুণ শিক্ষা, চাকরি কিংবা কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে, যা আগামী পাঁচ বছরে সাড়ে ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। লেবার পার্টির কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যালান মিলবার্নও এই সংকটের জন্য নিয়োগকর্তাদের দীর্ঘদিনের সস্তা বিদেশি শ্রমনির্ভরতাকে দায়ী করেছেন। একই সাথে ‘সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিস’-এর একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, একজন ব্রিটিশ তরুণের বিপরীতে নিয়োগকর্তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের প্রায় ২৭ জন তরুণকে কাজে নিচ্ছেন, যার ফলে নতুন প্রবেশকারীদের জন্য প্রাথমিক স্তরের চাকরিগুলো এখন আর সহজলভ্য থাকছে না।
তবে এই সংকটের বিপরীতে ভিন্ন যুক্তিও তুলে ধরছেন অনেক অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ার সেক্টর এবং আতিথেয়তার মতো মারাত্মক শ্রমিক সংকটে থাকা খাতগুলোকে সচল রাখতে অভিবাসীরাই মূল ভূমিকা পালন করছেন। টাওয়ার হ্যামলেটসের এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশী বাসিন্দা জানান, অনেক কাজে স্থানীয় তরুণদের কোনো আগ্রহ নেই, যার ফলে নিয়োগকর্তারা বাধ্য হয়ে বিদেশি কর্মীদের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে এককভাবে অভিবাসীদের ওপর দোষ চাপানো যুক্তিযুক্ত নয়। অন্যদিকে বার্মিংহাম ও ম্যানচেস্টারের স্থানীয় ব্রিটিশ-বাংলাদেশী তরুণ ও বাসিন্দাদের মতে, বর্তমান বাজার অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বাজার ধরে রাখতে এবং দেশীয় তরুণদের সুযোগ করে দিতে সরকারের উচিত এমন নীতি প্রণয়ন করা, যা স্থানীয় যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। সামগ্রিকভাবে, তীব্র অভিবাসন বিতর্ক সত্ত্বেও ব্রিটিশ অর্থনীতির একটি বড় অংশ যে এখনো অভিবাসী শ্রমশক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তা স্পষ্ট।