এসএলসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থানরত প্রায় ৪২ হাজার সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন করা যাচ্ছে না। এসব ঋণগ্রহীতার একটি বড় অংশ ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটিশ ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার সাবেক শিক্ষার্থীর কাছে মোট ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের শিক্ষা ঋণ বকেয়া রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং চীনে অবস্থান করছেন।
কীভাবে কাজ করে শিক্ষা ঋণ ব্যবস্থা
যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারি শিক্ষা ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। নির্দিষ্ট আয়সীমা অতিক্রম করার পর তাদের আয় অনুযায়ী কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হয়।
তবে বেকারত্ব, কম আয় বা বিশেষ পরিস্থিতিতে অনেক ঋণগ্রহীতা সাময়িকভাবে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পান। বিদেশে বসবাস করলেও আয়ের তথ্য জানিয়ে নিয়ম অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের বিধান রয়েছে।
উদ্বেগ ও সমালোচনা
বিষয়টি নিয়ে করদাতা অধিকার সংগঠন ও শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, বিদেশে অবস্থানরত ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে সরকারি তহবিলের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
ট্যাক্সপেয়ার্স অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধি ক্যালাম ম্যাকগোল্ডরিক বলেন, বিদেশে থাকা ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে বকেয়া অর্থ আদায়ে আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যদিকে শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট কিছু সংগঠন বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ ব্যবস্থার নীতিমালা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে সমালোচকদের এই অবস্থানের সঙ্গে সবাই একমত নন। অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদ মনে করেন, অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়ম মেনেই ঋণ পরিশোধ করেন। তাই বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কারণে পুরো বিদেশি শিক্ষার্থী সম্প্রদায়কে দায়ী করা ঠিক হবে না।
এসএলসির বক্তব্য
স্টুডেন্ট লোনস কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, অধিকাংশ গ্রাহক ঋণের শর্ত মেনে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯০ শতাংশের বেশি ঋণগ্রহীতার বর্তমান অবস্থান ও কর্মসংস্থানের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো ঋণগ্রহীতা যদি তিন মাসের বেশি সময় বিদেশে অবস্থান করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের আয়ের তথ্য এসএলসিকে জানাতে হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধের কিস্তি নির্ধারণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা ঋণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও বিদেশে অবস্থানরত ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।