সম্প্রতি এক কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালের রায়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত শ্রমিক শাবিন শাজিকে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যার বিরুদ্ধে নিয়োগকর্তা প্রতিশ্রুত কাজ দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ ছিল। এই রায়কে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ ভুক্তভোগী কখনই আদালত বা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে পারেন না।
কর্মসংস্থান আইনি সহায়তা নেটওয়ার্কের পরিচালক এমা উইলকিন্সনের মতে, শাবিন শাজির মামলাটি একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ, কারণ অধিকাংশ অভিবাসী শ্রমিক প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা পান না। অনেকেই বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও নিজেদের অভিবাসন মর্যাদা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কায় নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে সাহস পান না। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব শুধু ব্যক্তিগত মামলার উপর নির্ভরশীল হতে পারে না। এক্ষেত্রে সদ্য প্রতিষ্ঠিত ‘ফেয়ার ওয়ার্ক এজেন্সি’র আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন হলেও কার্যকরভাবে কাজ করতে হলে সংস্থাটিকে পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও জনবল সরবরাহ করা জরুরি।
একই সাথে যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, অনেক সাধারণ মামলার শুনানির তারিখ এখন ২০২৯ কিংবা ২০৩০ সালে নির্ধারণ করা হচ্ছে। দীর্ঘ এই বিলম্বের কারণে অসাধু নিয়োগকর্তারা কার্যত উৎসাহিত হচ্ছেন, কারণ মামলার নিষ্পত্তির আগেই অনেক অভিবাসী কর্মী চাকরি হারিয়ে বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। এছাড়া ট্রাইব্যুনালে জয়ী হওয়ার পরও ক্ষতিপূরণ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রদত্ত প্রায় অর্ধেক ক্ষতিপূরণই সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করা হয় না, যার ফলে বিচার পেলেও অনেক শ্রমিক বাস্তবে তার সুফল ভোগ করতে পারেন না।
এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কমিউনিটির মানুষ ও ব্যবসায়ীরাও। একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশী জানান, অনেক অভিবাসী ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন, কারণ নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে চাকরি হারানোর পাশাপাশি ভিসা বাতিলের আতঙ্ক থাকে। অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালের মামলার শুনানির জন্য তিন থেকে চার বছর অপেক্ষা করার দীর্ঘসূত্রতাকে বিচারের বাণী নীরবে কাঁদার শামিল বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। তবে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, বেশিরভাগ নিয়োগকর্তা নিয়ম মেনে চললেও কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পুরো কমিউনিটির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণ রোধ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের শ্রম অধিকার ও ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থায় অনতিবিলম্বে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।