ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জিয়া ইউসুফ বলেন, প্রস্তাবিত এই কর্মসূচির নাম হবে ‘অপারেশন রিস্টোরিং জাস্টিস’। তাঁর ভাষ্য, অতিরিক্ত অভিবাসন পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং এ বিষয়ে কঠোর নীতি গ্রহণ প্রয়োজন।
রিফর্ম ইউকে জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন থেকে বেরিয়ে আসা, মানবাধিকার আইন বাতিল এবং শরণার্থী–সংক্রান্ত কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তি পুনর্বিবেচনার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। দলটির মতে, অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়ার পরিবর্তে নিজ দেশে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত তাদের আটক রাখা উচিত।
এ ছাড়া সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বা নিজ ব্যয় বহনে অক্ষম ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের প্রস্তাবও দিয়েছে দলটি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমন্বয় করে একটি ‘ডিপোর্টেশন কমান্ড’ গঠন করা হবে, যা সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত শনাক্ত করতে কাজ করবে। পাশাপাশি বর্তমানের তুলনায় বড় আকারের ডিটেনশন সেন্টার নির্মাণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ২৪ হাজার মানুষকে রাখা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় সেরকো, মিটি, মিয়ার্স গ্রুপ, ক্লিয়ারস্প্রিংস রেডি হোমস, ভিএফএস গ্লোবাল ও টিএলএসকন্ট্যাক্টের মতো বিভিন্ন আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
জিয়া ইউসুফের এ প্রস্তাব প্রকাশের পর তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক অধিকারকর্মীরা পরিকল্পনাটিকে নাগরিক স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়িক মহলের একটি অংশও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও সুনামগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অভিজ্ঞতার আলোকে যুক্তরাজ্যেও এমন উদ্যোগ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে রিফর্ম ইউকে জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে সম্ভাব্য বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে।