প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্যাঙ্গ করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোলফাঘারি বলেছেন, ইরানের যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন।
আজ বুধবার ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের দাবি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোলফাঘারি বলেন, “হ্যাঁ,তারা আলোচনা করছে বটে, তবে ইরানের সঙ্গে নয়। এই যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশে বলতে চাই, নিজেদের ব্যর্থতাকে চুক্তি বলে চালানোর চেষ্টা বাদ দিন।”
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।
এদিকে সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।