সিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এই আদেশ জারি করেন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য একজন উপপুলিশ কমিশনারকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আধা সরকারি (ডিও) পত্র পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখার উপসচিব নাসরীন সুলতানা পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন। ওই চিঠি সিএমপিতে পৌঁছানোর পরই ওসিকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ওসি মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে গৃহীত ব্যবস্থা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি মুহাম্মদ শরীফ। তার দাবি, কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এক আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানের ছবি ব্যবহার করেই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন সিএমপির এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখা থেকে মুহাম্মদ শরীফকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। এর আগে তিনি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে কর্ণফুলী থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন এবং ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর সিটিএসবি থেকে এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখায় বদলি হয়েছিলেন।