আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো পর্যালোচনা করে নতুন চুক্তি সম্পাদন, যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করা এবং অববাহিকাভুক্ত দেশ— ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সমন্বয়ে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, উজানের দেশগুলোতে আন্তঃসীমান্ত নদীর ওপর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশে পানিপ্রবাহ হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি অসত্য নয়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক কারণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও উজানে পানির প্রাপ্যতা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটি যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে।
নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশব্যাপী নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ৯ হাজার ৪৬ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় চলমান প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে আগামী জুনের মধ্যে দেশব্যাপী মোট ৩৬৬ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন সম্পন্ন করবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।