এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী নাবিক রাকেশ চৌহানের মৃত্যুর পুরো ঘটনা এবং তার মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ ও হস্তান্তর করা হয়েছে- এ বিষয়ে তারা ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়েছে। দূতাবাস এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, মরদেহের সঙ্গে অঙ্গহানি এবং অবমাননার অভিযোগ তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। শুরু থেকেই তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।
রাকেশ চৌহান চলতি বছরের মে মাসে ভেনেজুয়েলায় মারা যান। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্রোগের কথা বলা হয়েছিল। পরে তার মরদেহ ভারতে পাঠানো হয়। ভারতে মরদেহ পৌঁছানোর পরই পরিবারের অভিযোগ সামনে আসে।
তারা বলেন, মরদেহে মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুসসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ভেতরের অঙ্গ অনুপস্থিত ছিল। এই অভিযোগের পর ভারতের নাবিকদের সংগঠন ফেডারেশন অব সিফেয়ারার্স ইউনিয়নস অব ইন্ডিয়া (এফএসইউআই) ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে। সংগঠনটির দাবি, ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ কোনো বিস্তারিত ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়াই মরদেহ ভারতে পাঠায়। পরে ভারতে নতুন করে ময়নাতদন্তে ভয়াবহ তথ্য পাওয়া যায়। এফএসইউআই-এর অভিযোগ অনুযায়ী, মরদেহে কোনো ভেতরের অঙ্গই ছিল না।
মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র, দুই ফুসফুস, যকৃত, কিডনি, পাকস্থলী, অন্ত্রসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অনুপস্থিত ছিল। এমনকি শ্বাসনালি ও স্বরযন্ত্রও ছিল না। সংগঠনটি আরো জানায়, মরদেহে বড় ধরনের সেলাই ছিল। গলা থেকে নিচ পর্যন্ত দীর্ঘ সেলাই এবং মাথার পেছনে এক কান থেকে আরেক কান পর্যন্ত সেলাই পাওয়া যায়। তাদের দাবি, মৃত্যুর আগে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহ প্রায় এক মাস হিমাগারে রাখা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিকে তারা 'অমানবিক ও সন্দেহজনক' বলে উল্লেখ করে এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের জবাবদিহি দাবি করে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওরিয়ায় মরদেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হয়। শুরুতে চিকিৎসকেরা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের ধারণা ছিল, আগেই ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মরদেহে ভেতরের প্রায় সব অঙ্গ অনুপস্থিত ছিল। এতে মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি, পাকস্থলী, অন্ত্র, থাইরয়েড, শ্বাসনালি, স্বরযন্ত্রসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, মরদেহ নীলচে হয়ে গিয়েছিল এবং কিছু জায়গার চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। শরীরে বড় কাটাছেঁড়া এবং সেলাইয়ের চিহ্ন ছিল।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের সময় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরীক্ষা করার জন্য বের করা হয়। তবে সেক্ষেত্রেও সেগুলো সংরক্ষণ বা ফেরত দেওয়ার নিয়ম থাকে। এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কেন এবং কীভাবে সব অঙ্গ অনুপস্থিত ছিল, এবং কেন ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত রিপোর্ট বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্য ও উদ্বেগ আরো বেড়েছে।