প্রস্তাবের মূল শর্তগুলো ইরানের জন্য হলো, নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোসহ সব পারমাণবিক স্থাপনা বন্ধ ও ধ্বংস করা। সব পারমাণবিক কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পূর্ণ তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন, অর্থায়ন ও অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করতে হবে। বিদ্যমান সব পারমাণবিক সক্ষমতা বিলুপ্ত করতে হবে এবং কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা না করার লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে। দেশের ভেতরে কোনো পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধকরণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং বিদ্যমান উপাদান আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতে হবে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সর্বদা উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা সীমিত রাখতে হবে, কেবল আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহার করতে হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব শর্ত মেনে চললে ইরানকে কিছু সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এতে বুশেহরে বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা, ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত। আলোচনার সময় এক মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে, তবে এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অপ্রকাশ্য অবস্থান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে শান্তি প্রস্তাব থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: বিবিসি।