রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে মার্চ সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ২৮.৫৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৫১ শতাংশ কম।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট এবং ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার কারণে এই পতন ঘটছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন বাজার খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
বড় দুই বাজারেই নিম্নমুখী প্রবণতা
রপ্তানির সবচেয়ে বড় অংশ যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে, যেখানে মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি নির্ভরশীলতা রয়েছে। তবে এ বাজারে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ১৪.২ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে ভোক্তা ব্যয় সংকোচন এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা এর প্রধান কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রেও একই ধরনের চাপ দেখা গেছে। দেশটিতে রপ্তানি কমে ৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল বাজার হলেও চাহিদার ধরনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
যুক্তরাজ্য বাজারেও কিছুটা পতন হয়েছে, অন্যদিকে কানাডায় রপ্তানি প্রায় স্থির রয়েছে।
নতুন বাজারেও প্রভাব
শুধু প্রধান বাজার নয়, অপেক্ষাকৃত নতুন বা অপ্রচলিত বাজারেও রপ্তানি কমেছে প্রায় ৮ শতাংশের মতো। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, বৈশ্বিক চাহিদার সামগ্রিক পরিবর্তন বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে প্রভাবিত করছে।
পণ্যের ধরনেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ৬.৪২ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে কমেছে ৪.৪৮ শতাংশ।
রপ্তানি আয়েও টানাপোড়েন
ইপিবির হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৫৩৯ কোটি ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৮৫ শতাংশ কম। রপ্তানির বড় অংশ পোশাক খাতের হওয়ায় এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়ছে।
কেন কমছে রপ্তানি
উদ্যোক্তাদের মতে, একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে কারখানা কয়েকদিন বন্ধ থাকায় উৎপাদন ও শিপমেন্টে ঘাটতি তৈরি হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে তারা মনে করছেন।
এছাড়া চীনের কম দামে পণ্য সরবরাহের কৌশলও বড় চাপ তৈরি করেছে। ইউরোপীয় বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে।
উদ্যোক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গি
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রধান দুই বাজার থেকেই অর্ডার কম আসছে। এর সঙ্গে জ্বালানি সংকটও উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে উদ্যোক্তা মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, বৈশ্বিক ক্রেতারা এখন সোর্সিং পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে। শুধু কম দামের ওপর নির্ভর না করে গুণগত মান, প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদনের দিকে জোর দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও সঠিক কৌশল ও বাজার বহুমুখীকরণ করতে পারলে রপ্তানি খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।