সোমবার (২২ জুন) এক আবেগঘন বক্তব্যে তিনি নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। তার এই ঘোষণার পর এখন সবার নজর লেবার পার্টির নতুন নেতা এবং যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেদিকে।
বর্তমানে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। লেবার পার্টির ভেতরে তার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে এবং অনেক পর্যবেক্ষক তাকে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে রাখছেন।
জুলাইয়ে শুরু হচ্ছে নেতৃত্ব নির্বাচন
স্টারমার জানিয়েছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের লক্ষ্যে আগামী জুলাই মাসে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মনোনয়ন গ্রহণ ৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নামও আলোচনায়
সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় ওয়েস স্ট্রিটিংয়ে নামও উঠে এসেছিল। তবে তিনি নিজেই অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে বার্নহ্যামের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন নেতৃত্ব কাঠামোয় স্ট্রিটিংকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
নতুন নেতা না আসা পর্যন্ত দায়িত্বে স্টারমার
নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জানিয়েছেন, সংসদ সেপ্টেম্বর মাসে পুনরায় অধিবেশনে বসার আগেই নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
বার্নহ্যামই কি হচ্ছেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?
লেবার পার্টির সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দলের নতুন নেতা নির্বাচিত হলেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় সমর্থনের বিচারে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর অন্য কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলে পরিস্থিতি পরিবর্তনও হতে পারে।
স্টারমারের পদত্যাগের মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন দেখার বিষয়, লেবার পার্টির নেতৃত্বের ভার শেষ পর্যন্ত কার হাতে যায় এবং তিনি দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবিলা করেন।