সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Channel18

শিল্প-সাহিত্য

সংস্কৃতির গল্প

সংস্কৃতির গল্প

এককালে ছিল এক বিশাল নদী নাম তার ‘সংস্কৃতি’। সে বয়ে চলত পৃথিবীর সব দেশে। আরবে জন্ম নেওয়া এক ঝর্ণা এসে মিশল এই নদীতে। নাম তার ইসলাম। ঝর্ণা বলল, আমি তোমাকে পবিত্র করব, তোমার জলে তাওহীদের সুর তুলব। নদী হাসল। সে তো আগে থেকেই অনেক স্রোত নিয়েছে- গ্রিক দর্শনের, পারস্যের কবিতার, ভারতের যোগ-বৈরাগ্যের। ইসলামের ঝর্ণা এসে নদীকে আরও সমৃদ্ধ করল।

এককালে ছিল এক বিশাল নদী নাম তার ‘সংস্কৃতি’। সে বয়ে চলত পৃথিবীর সব দেশে। আরবে জন্ম নেওয়া এক ঝর্ণা এসে মিশল এই নদীতে। নাম তার ইসলাম। ঝর্ণা বলল, আমি তোমাকে পবিত্র করব, তোমার জলে তাওহীদের সুর তুলব। নদী হাসল। সে তো আগে থেকেই অনেক স্রোত নিয়েছে- গ্রিক দর্শনের, পারস্যের কবিতার, ভারতের যোগ-বৈরাগ্যের। ইসলামের ঝর্ণা এসে নদীকে আরও সমৃদ্ধ করল। বাগদাদের বায়তুল হিকমায় বিজ্ঞানীরা গ্রিক বই অনুবাদ করলেন, কর্ডোবায় কবিরা প্রেমের গজল লিখলেন, দিল্লি-আগ্রায় মুঘল সম্রাটরা মিনার-গম্বুজ তুললেন যা ইসলামের সৌন্দর্য আর স্থানীয় কারুশিল্পের মিলন। এই সময়টাকে বলা হয় ইসলামের স্বর্ণযুগ। সংস্কৃতি তখন ‘ইসলামিক’ হয়ে উঠেছিল কিন্তু কি শুধু ধর্মের নিয়মে বাঁধা? না। সে ছিল উন্মুক্ত, শোষণমুক্ত, জ্ঞানের আলোয় ভরা। আরবি সংস্কৃতি আর ইসলামী সংস্কৃতি আলাদা-একটা স্থানীয়, অন্যটা বৈশ্বিক। ইসলাম নদীকে বলেছিল, “তোমার জল যতদিন তাওহীদের পথে বয়, ততদিন তুমি আমার।”

কিন্তু নদী তো শুধু আরবের নয়। সে বাংলায় এসে পড়ল। এখানে তার জলে মিশল বৌদ্ধ-হিন্দু-আদিবাসীদের লোকায়ত সুর। সুফি পীররা এসে বললেন, “ইসলাম তোমার জলে মিশবে, কিন্তু তোমার স্রোত থামবে না।” লালন ফকির গাইলেন, “আমি কোন ধর্মের নই, মানুষের ধর্মে আছি।” বাংলার মুসলমানরা পীরের মাজারে গান গাইলেন, পান্তা-ইলিশ খেলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রাণীর মুখোশ পরলেন। এই মিশ্রণকে বলা হয় সিনক্রেটিক কালচার বা সমন্বিত সংস্কৃতি- যেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম ও লোকজ ঐতিহ্য মিলেমিশে একটি স্বতন্ত্র ধারার সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় গোষ্ঠী বলেন, “এটা অপসংস্কৃতি, শিরক।” কিন্তু ইতিহাস বলে, এটাই বাংলার টিকে থাকার গল্প। ইসলাম বাংলাকে ‘ইসলামিক’ করেনি; বাংলা ইসলামকে বাঙালি বানিয়েছে।

নদী যদি বলে, “আমি শুধু ইসলামিক হব, অন্য স্রোত বন্ধ”, তাহলে সে শুকিয়ে যাবে। বাস্তবে সংস্কৃতি কখনোই বিশুদ্ধ নয়। বাংলাদেশের সংস্কৃতি ইসলামিক নয়, সেক্যুলারও নয়-সে সিনক্রেটিক। লালনের গানে আল্লাহ আর মানুষ এক হয়। পহেলা বৈশাখে মুসলিম-হিন্দু একসঙ্গে ‘এসো হে বৈশাখ’ গায়। মাজারে হিন্দু-মুসলিম দুজনেই মানত করে। এটাই বাংলার সংস্কৃতির গল্প।

আরও

ছায়ানটে গান ও আবৃত্তিতে একুশের শ্রদ্ধা

শিল্প-সাহিত্য

ছায়ানটে গান ও আবৃত্তিতে একুশের শ্রদ্ধা

একুশের গান, কবিতা আবৃত্তি এবং কথন দিয়ে সাজানো ছিল ছায়ানটের ভাষাশহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আয়োজন। রাজধানীর ধ...

২০২৬-০৩-১৩ ০০:৪৫