গুরুত্বপূর্ণ বিল ও অধ্যাদেশ
মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল, ২০২৬, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দল আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার পর শেষ মুহূর্তে ওয়াকআউট করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
মানবাধিকার কমিশন বিল
বিরোধী সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, এই বিলের মাধ্যমে কমিশনকে পুনঃপ্রচলন করা হলেও এটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ২০০৯ সালের আইনটি পুনঃপ্রচলন করা হয়েছে যাতে কমিশন খালি না থাকে এবং মানবাধিকার রক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ
বিরোধী সদস্যরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগ তুললেও আইনমন্ত্রী বললেন, আদালত আইন বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু আইন প্রণয়ের ক্ষমতা সংসদের। ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ ও ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে। এতে সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক কাঠামো আগের কাঠামোয় ফিরে এসেছে।
জামুকা বিল
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল পাস করা হয়েছে। এতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রাখা হয়েছে। জামায়াত পক্ষ থেকে আপত্তি থাকলেও এনসিপি লিখিতভাবে কোনো আপত্তি জানাননি।
অধ্যাদেশে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সহযোগী ও মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যের সংজ্ঞা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক নাগরিক, পুলিশ ও অন্যান্য স্বীকৃত বাহিনী ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গণ্য হবেন।