সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারের আলোকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মন্ত্রী জানান, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যায়ের সব শিক্ষককে ট্যাব সরবরাহ করা হবে এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে জোর দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আসবে।
উচ্চশিক্ষা সহজ করতে বিদেশে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষার্থী ঋণ’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। এছাড়া হাফেজে কুরআনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গণঅভ্যুত্থান ও আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতর্ক ক্লাব গঠন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে একাধিক শিফটে প্রশিক্ষণ চালিয়ে জট নিরসন করা হবে এবং জাতীয়করণকৃত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদেরও এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
শেষে তিনি বলেন, এই ১৮০ দিনের কর্মসূচি দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।