স্ট্রিটিংয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী তিন বছরে ২০ হাজার শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট প্রোগ্রাম’ চালু করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কর্মসূচির জন্য ২৫ কোটি পাউন্ড বরাদ্দের প্রস্তাবও এতে রয়েছে।
স্ট্রিটিং মনে করেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের আকৃষ্ট করতে পারলে তা যুক্তরাজ্যের গবেষণা, প্রযুক্তি ও অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে। তাঁর মতে, এসব উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে নতুন উদ্ভাবন ও গবেষণার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
অভিবাসন নীতির পাশাপাশি উত্তর সাগরের নতুন তেল ও গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব ব্যবহারের বিষয়েও প্রস্তাব দিয়েছেন স্ট্রিটিং। তিনি বলেন, জ্যাকড ও রোজব্যাংক তেল ও গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরকারের যে রাজস্ব আসবে, তা জনগণের জ্বালানি ব্যয় কমানোর উদ্যোগে ব্যবহার করা উচিত।
স্ট্রিটিংয়ের মতে, ঘরবাড়ির ইনসুলেশন উন্নয়ন, হিট পাম্প স্থাপন এবং বিদ্যুতায়নের মতো পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে একদিকে যেমন মানুষের জ্বালানি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে দেশের কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাবে।
তবে উত্তর সাগরে নতুন করে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন পরিবেশবাদীরা। তাঁদের আশঙ্কা, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং জলবায়ু ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য লেবার নেতৃত্বের আলোচনায় থাকা আরেক নাম অ্যান্ডি বার্নহাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
স্ট্রিটিংয়ের উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন অভিবাসনসংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পূর্ব লন্ডনের এক ব্যবসায়ী বলেন, বিশ্বমানের মেধাবীরা যুক্তরাজ্যে এলে গবেষণা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে সম্প্রদায়ের একটি অংশের আশঙ্কা, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়ানো হলেও সাধারণ অভিবাসী, কেয়ারকর্মী ও পরিবারভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে নীতি আরও কঠোর হতে পারে।