সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সহ-সভাপতি আব্দুল বাসেত খান, আলী আজম বি. বাড়িয়া, মহাসচিব মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী, মেরাজুল হক মাযহারী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক দ্বীন মুহাম্মদ আশরাফসহ অন্যান্য নেতারা।
সংগঠনটির সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। তার দাবি, ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র সংযোজন জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ছিল না।
তিনি বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে ইসলামি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামি শিক্ষাকে প্রান্তিক করে রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, ধর্মীয় শিক্ষার অভাবে নতুন প্রজন্ম দ্বীনি জ্ঞান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার স্বাধীনতা ও বিশেষায়িত চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে একীভূত করার যেকোনো উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে। সংস্কারের নামে কওমি শিক্ষার স্বকীয়তা নষ্টের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের শীর্ষ আলেম ও কওমি বোর্ডগুলোর মতামত নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির ১৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সংবিধান সংশোধন করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, সব স্তরে ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, ইসলামি সংস্কৃতি সংরক্ষণে সাংবিধানিক সংশোধন, ধর্ম অবমাননাবিরোধী আইন প্রণয়ন, শরিয়াহ আদালত প্রতিষ্ঠা, কওমি মাদ্রাসার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কওমি মাদ্রাসার দান-অনুদান আয়করমুক্ত রাখা, শিক্ষা কমিশন ও জাতীয় শিক্ষাক্রম বোর্ডে কওমি আলেমদের অন্তর্ভুক্তি, অশ্লীলতা ও মাদকাসক্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।