সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে প্রশ্নটি ছিল খুবই সহজ—তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন কি না। উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ দেখানো উচিত। কিন্তু সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি যে ধরনের অপেশাদার, ব্যঙ্গাত্মক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন, তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
হাসনাত বলেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে প্রতিমন্ত্রী তাচ্ছিল্যের সঙ্গে জানতে চেয়েছেন, ‘কোন পত্রিকা ঠিক? কে এত চিন্তিত যে আমাকে কাজ করতে দেবে না?’ পাশাপাশি তিনি ২০০৮ সাল এবং মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন আমলের প্রসঙ্গও টেনেছেন।
এ ধরনের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তার ভাষায়, কূটনীতিকরা সাধারণত বিনয়ী ও ভদ্র হন। কোনো প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে হলেও কূটনৈতিকভাবে তা করা যায়। কিন্তু হুমায়ুন কবির সে পথে না গিয়ে বরং তার নাগরিকত্ব নিয়ে ওঠা প্রশ্নকেই আক্রমণ করেছেন।
হাসনাত আরও বলেন, সংবিধান, আইন ও বিধিবিধান সবার জন্য সমান। কোনো ব্যক্তির বিদেশি নাগরিকত্ব থাকলে তিনি সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হতে পারবেন না। এনসিপির একজন নেতা এ কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার দাবি, বিএনপির অন্তত অর্ধডজন প্রার্থী নির্বাচনের সময় বিদেশি নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করেছিলেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তিনজনের কথা বললেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘হুমায়ুন কবির আমাদের শত্রু নন।’ তার দাবি, হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহযোগী হিসেবে ছিলেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী তার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের বিষয়টি জেনে-বুঝেই তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রে মন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক। তারা হুমায়ুন কবিরের শাস্তি চান না; শুধু জানতে চান, তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন কি না এবং ছেড়ে থাকলে তার প্রমাণ কী।
হাসনাতের ভাষ্য, প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের ‘গরম চোখ’ দেখানো এবং ক্ষমতার দম্ভ প্রকাশ করা জনগণের সঙ্গে অসততার শামিল। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে এবং ধীরে ধীরে ‘self-censorship’ বা স্ব-নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের রাজনৈতিক তকমা দেওয়া এবং ভয়-চাপের পরিবেশ তৈরি করার সংস্কৃতি তারা আর দেখতে চান না। নতুন সরকারের কাছ থেকেও এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।
সবশেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতি সরাসরি প্রশ্ন রেখে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শুধু দুঃখপ্রকাশ নয়, তাকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে তিনি বিদেশি নাগরিক কি না। তার ভাষায়, ‘হ্যাঁ অথবা না—বলুন।’