৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে রীতিমতো লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে পানামা। তবে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে মধ্য আমেরিকার এ দেশটির কোনো অঞ্চল থেকে হতাহতের খবর আসেনি।
গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ১টা) পানামায় আঘাত হানে এই উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিস) বরাত দিয়ে জাতীয় জরুরি পরিষেবা সংস্থা ন্যাশনাল সিভিল প্রোটেকশন সিস্টেমের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কম্পণের স্থায়িত্ব ছিল ১ মিনিট এবং ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল এপিসেন্টার ছিল রাজধানী পানামা সিটি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে হেরেরা প্রদেশের ছোট শহর পিতালেজো আরির্বায়, ভূপৃষ্ঠ থেমে মাত্র ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে।
শুরুতে ইউএসজিএস ভূমিকম্পটির মাত্রা ৮.০ বলে ধারণা করেছিল, তবে পরে তা সংশোধন করে ৭.৭ নির্ধারণ করে।
ভূপৃষ্ঠের অগভীর অংশে এপিসেন্টার হওয়ায় কম্পণের মাত্রাও ছিল তীব্র। ৭৫ হাজার ৪১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ পানামার জনসংখ্যা ৪৬ লাখ ২৭ হাজার। ন্যাশনাল সিভিল প্রোটেকশন সিস্টেমের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ শুক্রবারের ভূমিকম্পের ধাক্কা অনুভব করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে পোস্ট ও ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওিচিত্রে দেখা গেছে, পানামা সিটির বহুতল ভবনগুলো থেকে মানুষ পড়িমরি করে বেরিয়ে আসছেন।
৪৬ বছর বয়সী সালোমন অ্যান্ডিয়ন এএফপি-কে বলেন, “আমি ভয় পেয়েছিলাম, কারণ কম্পনটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী। আলমারি, বিছানা এবং রান্নাঘরের সব ভারী জিনিসপত্র কাঁপছিল।" আফটারশকের (মূল ভূমিকম্প-পরবর্তী কম্পন) কারণে দ্বিতীয়বারের মতো নিজের ১৫ তলা ভবন থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি এ কথা বলেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ২০ তলারও বেশি উঁচু একটি ভবনের ছাদের সুইমিং পুল থেকে পানি নিচে পড়ছে।