সরেজমিনে দেখা গেছে, বুধবার (২৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মোনাকো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড পাম্পেও পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে। এর আগে ঈদের আগ থেকেই বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে অকটেনের সরবরাহ বন্ধ ছিল।
জ্বালানি সংকটের কারণে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক চালক পাম্পে গিয়ে জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এক মোটরসাইকেল চালক অভিযোগ করেছেন, “সরকার বলেছে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেলের মজুদ রয়েছে, কিন্তু আমরা যে পাম্পেই যাচ্ছি সেখানেই জ্বালানি নেই। এখন আমরা কি করব বুঝতে পারছি না।”
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মোনাকো ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হাবিবুর রহমান বলেন, “সাধারণত প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হয়। তবে ঈদের কারণে চাহিদা প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে। গতকাল আমাদের প্রায় নয় হাজার লিটার বিক্রি হয়েছে, আর আজ বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে মজুদ শেষ হয়েছে। পুনরায় সরবরাহ কখন হবে তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।”
একদিকে জ্বালানি সংকট যান চলাচল ব্যাহত করছে, অন্যদিকে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। নেত্রকোণার বিভিন্ন বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। টিকিট কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাচ্ছেন না।
যাত্রীদের মধ্যে কেউ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে যাচ্ছেন, কেউ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস পাচ্ছেন না। অন্যরা ট্রাক, পিকআপ ভ্যান বা লেগুনার মতো বিকল্প মাধ্যম ব্যবহার করে শহরমুখী হচ্ছেন।