‘দ্য লেগাসি অব দ্য নবাব: অ্যান ওড টু দ্য লাইফ অ্যান্ড টাইমস অব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুর’ শীর্ষক এই সেমিনারে তার চিরস্থায়ী অবদান ও গৌরবময় জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ইতিহাসবিদ, গবেষক, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং নবাব পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের মধ্যে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর প্রপৌত্র নবাবজাদা খাজা সামিউল্লাহ আসকারীও অংশ নেন।
সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার আমন্ত্রিত অতিথি ও নবাব পরিবারের সদস্যদের স্বাগত জানান। নবাব স্যার সলিমুল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও জনকল্যাণমূলক কাজ উপমহাদেশের মুসলমানদের রাজনৈতিক জাগরণে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল। এই রাজনৈতিক সচেতনতাই পরবর্তীতে তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে বেগবান করে।
হাইকমিশনার ১৯০৬ সালে ঢাকায় সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় নবাবের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। একই সাথে শিক্ষা, জনকল্যাণ এবং ঢাকার সার্বিক উন্নয়নে—বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তার অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট আলোচকগণ নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুরের জীবন ও কর্মের বহুমুখী দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ড. মোহাম্মদ আলমগীর ঢাকার নবাবদের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং বাংলার ইতিহাসের এক রূপান্তরকালীন সময়ে নবাব সলিমুল্লাহর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কথা আলোচনা করেন।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নাহিদ আফরোজ কবির পূর্ব বাংলায় শিক্ষা বিস্তারে নবাবের অগ্রগামী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, তার দূরদর্শিতা ও দানশীলতা সমাজে এক সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছিল, যা আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
এছাড়া ঢাকা ট্রিবিউনের সাবেক সম্পাদক ও কাউন্টারপয়েন্টের সম্পাদক জাফর সোবহান মুসলিম রাজনৈতিক চিন্তাধারার বিকাশ এবং উপমহাদেশের মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও সামগ্রিক অগ্রগতির পেছনে নবাব সলিমুল্লাহর যে রূপকল্প ছিল, তা নিয়ে আলোচনা করেন। নবাব পরিবারের পক্ষ থেকে নবাবজাদা খাজা সামিউল্লাহ আসকারী তার প্রপ্রিতামহের স্মৃতি ও গৌরবময় উত্তরাধিকারের কথা স্মরণ করেন। তিনি বর্তমান সময়েও জনসেবা, শিক্ষা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের আদর্শকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারের সমাপনী পর্বে হাইকমিশনার ইমরান হায়দার উপস্থিত বিশিষ্ট বক্তাদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেন। এই আয়োজন উপলক্ষ্যে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুরের জীবন, কর্ম ও অবদান চিত্রিত করে দুর্লভ ছবি ও আর্কাইভাল নথির একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষভাগে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।