মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী নাফ নদীর জেটি ঘাটে আয়োজিত এক যৌথ ব্রিফিংয়ে কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, চক্রের মূলহোতা মো. আজিম উল্লাহ (৪০) উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, মিয়ানমারে অবস্থানকারী এক ব্যক্তির মাধ্যমে চাহিদা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এলাকার কিছু অসাধু বোট মালিকের সহযোগিতায় এসব পণ্য পাচার করা হতো।
কোস্টগার্ড জানায়, পাচারের বিনিময়ে আজিম উল্লাহ মাদক, বিদেশি সিগারেটসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য দেশে আনার চেষ্টাও করতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগে সোমবার ভোরে সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় একটি ফিশিং ট্রলারে অভিযান চালিয়ে ৯০০ বস্তা সিমেন্টসহ ১৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। পরে আটক মাঝি চাঁন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন বিকেলে র্যাব-১৫ (সিপিসি-২) এর সহযোগিতায় উখিয়ার বালুখালী এলাকা থেকে মূলহোতা আজিম উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাচারচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জব্দকৃত সিমেন্ট, ট্রলার ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।