অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব মলিয়াইশ গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার মোরশী ও নিজ মালিকানাধীন জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় একই এলাকার নাজির হোসেন (৪২) ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টা ৩০ নাজির হোসেন তাজুল ইসলামের বসতবাড়ির টিনের ঘেরা ভেতরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালান। এ সময় জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয় এবং ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কেটে সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
ভুক্তভোগী তাজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় তিনি ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারা অনুযায়ী চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতোমধ্যে বসতবাড়ির পার্শ্ববর্তী স্থানে ইট, বালি, রড ও সিমেন্ট মজুদ করেছেন এবং যেকোনো সময় স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করতে পারেন।
তাজুল ইসলাম প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই জমিতে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ বা দখল কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন এবং বিষয়টি দ্রুত আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করা হয়।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত নাজির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি প্রবাসে থাকলেও স্থানীয়ভাবে আমিন দিয়ে পরিমাপ করে বৈঠকের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তার অংশে পিলার স্থাপন করা রয়েছে। তবে তাজুল ইসলাম তার জমি বুঝিয়ে না দেওয়ায় তিনি নিজের জায়গা দখলে নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, পুনরায় পরিমাপ করে যদি প্রমাণ হয় যে ওই জমি তাজুল ইসলামের, তাহলে তিনি গাছের ক্ষতিপূরণসহ জমি ছেড়ে দেবেন।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আজিজুর রহমান ও এসআই মোস্তাফিজ জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।