শুক্রবার প্রকাশিত এফএও-র মাসিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্চ মাসে বিশ্ব খাদ্যমূল্য সূচক ১২৮.৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এটি ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেশি এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক মাসে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে চিনি ও ভোজ্যতেলের। মার্চে চিনির মূল্যসূচক বেড়েছে ৭.২ শতাংশ এবং ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক বেড়েছে ৫.১ শতাংশ। এ ছাড়া খাদ্যশস্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ফেব্রুয়ারির তুলনায় খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক ১.৫ শতাংশ বেড়েছে, যার মধ্যে কেবল গমের দামই বিশ্ববাজারে ৪.৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাংসের দাম ১ শতাংশ বাড়লেও সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে চালের বাজার। মার্চ মাসে চালের দাম ৩ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের এই প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে, সংঘাতের ফলে কেবল পণ্য পরিবহন নয়, বরং জ্বালানি ও সারের দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন খরচও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এটি ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এফএও-র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো এ প্রসঙ্গে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি ৪০ দিনের বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে কৃষকরা সারের ব্যবহার কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারেন অথবা বর্তমান ফসলের পরিবর্তে বিকল্প কোনও ফসল চাষের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
সংস্থাটি মনে করছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে চলতি বছর এবং পরবর্তী সময়েও খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।