২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন সামরিক অভিযানে লেবাননে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৭ শিশু এবং ৬৬ নারী। এছাড়া এক মিলিয়নের বেশি মানুষ নিজ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।
ইসরায়েলের বিমান হামলার সবচেয়ে বড় লক্ষ্যগুলোর একটি হচ্ছে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়ে। এখান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নতুন করে জারি করা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশে অনেক এলাকা দ্রুত খালি হয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে ইমানুয়েল ম্যাকরনের নেতৃত্বাধীন ফ্রান্স। তিনি প্যারিসে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননকে বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে দেয়া যাবে না। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফ্রান্স ৬০ টন মানবিক সহায়তা ও সাঁজোয়া যান পাঠানোর ঘোষণাও দিয়েছে।
তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, বাস্তবে কূটনীতির চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রেই আলোচনার শর্ত নির্ধারিত হচ্ছে। প্যারিসের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব প্যারিস–এর রাজনৈতিক বিজ্ঞান অধ্যাপক জিয়াদ মাজেদ মনে করেন, দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলো দখল করে ইসরায়েল ভবিষ্যৎ আলোচনায় নিজের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। এর মাধ্যমে লেবানন সরকারকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চাপ দেওয়া হতে পারে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ইতোমধ্যে উত্তর সীমান্তে প্রায় এক লাখ সেনা এবং ছয়টি সামরিক ডিভিশন মোতায়েন করেছে। বিশেষভাবে কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম শহর, যা মারজায়উন সমভূমি এবং লিতানি নদীর দিকে যাওয়ার পথ নিয়ন্ত্রণ করে।
লেবাননের অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাহা হাল্লাল বলেন, খিয়াম দখল করতে পারলে দক্ষিণ লেবাননের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা সহজ হবে এবং সেখানে একটি কার্যত ‘বাফার জোন’ তৈরি করা সম্ভব হবে।
এদিকে লেবাননের ভেতরেও রাজনৈতিক মতভেদ বাড়ছে। ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দাবি জানালেও অনেকেই মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দেশের ভেতরে নতুন গৃহসংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত লেবানন সংকটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।