জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে দেখা গেছে, বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দিতে পারছেন না অনেক কৃষক। অনেকে উচ্চমূল্যে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। কৃষক রুকমান হোসেন বলেন, ‘ডিজেল না পেলে জমিতে পানি দেব কীভাবে? ফসল নষ্ট হলে আমাদের সব পরিশ্রম বৃথা যাবে।’
গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের প্রধান ক্যানালে পানি থাকলেও শাখা ক্যানেলের সামনে ও পার্শ্ববর্তী জমিতে তামাক চাষের কারণে ধান চাষিরা সেচের পানি পাচ্ছেন না। স্থানীয় কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, জনপ্রতি দুই লিটার করে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে, প্রয়োজন ১০ লিটার। লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাওয়াতেও দিনের অধিকাংশ কাজ স্থগিত হয়ে যাচ্ছে।
পাম্প মালিকদের দাবি, পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে, তবে চাহিদার তুলনায় কিছু পরিমাণ তেল প্রদান করছেন।
কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ২৬,২৭৮টি পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে ৪,২০১টি বিদ্যুতচালিত, ২২,০৭৭টি ডিজেলচালিত, যা ৮৮,৭৪৮ হেক্টর জমিতে সেচের কাজ করছে।
উপ-পরিচালক শওকত হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘কৃষকরা যাতে ঠিকমতো সেচ দিতে পারে, এজন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করেছি। ডিজেল সরবরাহে তৎপর রয়েছি।’
তবে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে অফিসের বক্তব্য মিলছে না। স্থানীয়রা বলছেন, তেল সংকট দ্রুত সমাধান না হলে কৃষিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে এবং খাদ্য উৎপাদনেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।