অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বগুড়াকে দেশের অন্যতম শিক্ষানগরী ও এডুকেশনাল হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি জানান, আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে বগুড়াকে একটি মডেল জেলায় রূপান্তর করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সঠিক পাঠদান নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শিক্ষকদের জন্য শতভাগ উৎসব ভাতা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের প্রণোদনা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ৩ হাজার ১৪৭ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়, যা প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই প্রণোদনা, ভর্তুকি ও প্রয়োজনীয় কৃষি সহায়তা পাবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী। কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরই একটি প্রমাণ।”
মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষকদের জন্য নতুন ‘হালখাতা’ খোলা হয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস হল নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব হলে পরীক্ষা গ্রহণসহ বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। এতে শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম , জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এসএম আমানুল্লাহ , বগুড়া আরডিএ’র ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মজিদ, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।
পহেলা বৈশাখের এই আয়োজন কেবল একটি উৎসব উদযাপন নয়, বরং শিক্ষা ও কৃষি—এই দুই খাতকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। বগুড়াকে শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা এবং কৃষকদের হাতে আধুনিক সহায়তার হাতিয়ার তুলে দেওয়া—দুইয়ের সমন্বয়ে এই আয়োজন নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
বৈশাখের এই দিনে বগুড়ায় উন্নয়নের যে ‘হালখাতা’ খোলা হলো, তা ভবিষ্যতে জেলার সার্বিক অগ্রগতির একটি শক্ত ভিত্তি হয়ে উঠবে বলেই প্রত্যাশা।