অভিযোগ রয়েছে, এই ভোল্ট পাল্টানো নেতারা খুলনা অঞ্চলের বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের কতিপয় নেতার সঙ্গে আঁতাত করে বদলি বাণিজ্য, জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং চরিত্র হননে মেতে উঠেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ মার্চ গঠিত আওয়ামীপন্থী সিবিএ (জাতীয় শ্রমিক লীগ) কমিটির কার্যকরী সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন শেখ পট পরিবর্তনের পর নিজেকে বিএনপিপন্থী রূপালী ব্যাংক কর্মচারী সংঘের নেতা হিসেবে দাবি করছেন।
একই কমিটির সহ-সভাপতি মো. ইউনুস বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আমিনুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক শেখ আহমেদ আলী মোহন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রবিউল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মো: রুবেল ফকির এবং প্রচার সম্পাদক মো: আদম শেখও রাতারাতি নিজেদের রাজনৈতিক খোলস বদলে বিএনপিপন্থী সেজেছেন।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিযোগ, নীতি-আদর্শহীন এই আওয়ামী সিন্ডিকেটটিকে পর্দার আড়াল থেকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন রূপালী ব্যাংক খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের বর্তমান বিভাগীয় প্রধান রোকনুজ্জামান। উল্লেখ্য, রোকনুজ্জামান তৎকালীন বরিশাল জোনাল অফিসে থাকাকালীন আওয়ামীপন্থী সংগঠন 'বঙ্গবন্ধু পরিষদ'-এর প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী সরকারের আমলে এই রোকনুজ্জামান এবং উল্লিখিত সিবিএ নেতারা মিলে বিরোধী মতাদর্শের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চরম জুলুম ও হয়রানি চালিয়েছিলেন। অথচ দেশের পট পরিবর্তনের পর আবারও তারাই হাত মিলিয়ে ভোল্ট পাল্টে নতুন করে জাতীয়তাবাদী ঘরানার ও সাধারণ কর্মকর্তাদের বদলি ও প্রশাসনিক হয়রানির জালে জড়াচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের শাসনামলে যারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোণঠাসা করে রেখেছিলেন, সরকার পতনের পরও তাদের এমন দাপট ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যে রূপালী ব্যাংকের খুলনা বিভাগের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং এই সুবিধাবাদী ও নীতিহীন চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর শাস্তিমূলক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রূপালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।