ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর অনেকে পর্যাপ্ত কাজ পাননি। কেউ কেউ স্পন্সরশিপ হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ফলে তাদের মধ্যে অনেকেই বাসাভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সূত্র বলছে, সংকটের কারণে কিছু প্রবাসী বিকল্প উপায়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশে যাওয়ার চেষ্টাও করছেন।
যুক্তরাজ্যের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশটির কেয়ার খাতে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার শূন্যপদ ছিল। এই ঘাটতি পূরণে ২০২৩ সালে কেয়ার ভিসা ও সংশ্লিষ্ট নির্ভরশীল সদস্যদের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ভিসা ইস্যু করা হয়। এই চাহিদার সুযোগে অনেক নতুন প্রতিষ্ঠান স্পন্সরশিপ লাইসেন্স নিয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত না করেই বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। ফলে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর অনেক কর্মী প্রত্যাশিত কাজ পাননি এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
আইনি সহায়তার সুযোগ
অভিবাসন–বিষয়ক আইনজীবীরা বলছেন, স্পন্সরশিপ হারানো কর্মীদের জন্য এখনো কিছু আইনি সুযোগ রয়েছে। তারা নির্দিষ্ট শর্তে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করতে পারেন। এতে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজার পথ উন্মুক্ত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেয়ার খাতে এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শূন্যপদ রয়েছে। তবে ডিপেন্ডেন্ট ভিসা নীতিতে পরিবর্তন এবং স্পন্সরশিপ সংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কর্মীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
কমিউনিটি সহায়তার দাবি
কমিউনিটির প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রতারণার শিকার প্রবাসীদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আইনি পরামর্শ, কর্মসংস্থান–সংক্রান্ত তথ্য এবং জরুরি সহায়তা প্রদানের জন্য কমিউনিটি পর্যায়ে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শুধু লন্ডনকেন্দ্রিক চাকরির বাজারের দিকে নজর না দিয়ে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন কাউন্টি ও ছোট শহরেও কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। অনেক এলাকায় এখনো কেয়ার ও অন্যান্য খাতে জনবলের চাহিদা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের আগে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, স্পন্সরশিপ লাইসেন্স এবং চাকরির শর্তাবলি যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।