সম্প্রতি ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার মধ্যে দ্বীপটি প্রথমদিকে অক্ষত থাকলেও গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায় বলে জানা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক অবকাঠামো; তেল স্থাপনাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই প্রবাল দ্বীপটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। আয়তনে এটি নিউইয়র্কের ম্যানহাটন এলাকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
ইরানের প্রধান তেলক্ষেত্র— আহভাজ, মারুন ও গাচসারান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপে আসে। এরপর সেখান থেকে বিশাল সুপার ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে তা বিশ্ববাজারে পাঠানো হয়। গভীর সমুদ্রের সুবিধা থাকায় বড় বড় তেলবাহী জাহাজ সহজেই এখানে ভিড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলো ধ্বংস হলে তা ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হবে। এমনকি দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামোও বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক হামলায় কী ঘটেছে
মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, দ্বীপটির বিমানবন্দর, রানওয়ে, ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার ও নৌ-মাইন সংরক্ষণাগারের মতো সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দ্বীপে ১৫টির বেশি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে তেল স্থাপনাগুলো অক্ষত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত খার্গ দ্বীপকে কৌশলগত চাপ হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ না করে।
বিশ্ববাজারে তেলের প্রভাব
বর্তমানে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং আরও প্রায় ১৩ লাখ ব্যারেল ঘনীভূত জ্বালানি ও অন্যান্য তরল জ্বালানি উৎপাদন করে। আন্তর্জাতিক বাজারে মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪.৫ শতাংশ আসে দেশটি থেকে।
তেল বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপের অবকাঠামো ধ্বংস হলে তা পুনর্গঠনে কয়েক মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি কোথায় গড়াতে পারে
ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়বে।
সূত্র: সিএনএন।