হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনের একাংশ উদ্বিগ্ন যে, তেলের দাম ও পেট্রোলের মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেলে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে। অন্যদিকে কিছু প্রভাবশালী নেতা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রেসিডেন্টের চারপাশে প্রভাব বিস্তারের এই প্রতিযোগিতা এবার যুদ্ধ ও শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত। ২৮ ফেব্রুয়ারি অভিযান শুরু হওয়ার সময় যে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক দিনে ট্রাম্প তা থেকে কিছুটা সরে এসে অভিযানের পরিসর সীমিত বলে উল্লেখ করছেন। তবে বার্তাটি অনিশ্চিত: একদিকে তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ জিতেছি,” অন্যদিকে জানিয়েছেন, কাজ এখনও শেষ হয়নি।
অর্থনৈতিক উপদেষ্টারা সতর্ক করে বলেছেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন কমিয়ে দিতে পারে। রাজনৈতিক উপদেষ্টারাও প্রেসিডেন্টকে বিজয়ের সংজ্ঞা সীমিত রাখতে এবং অভিযান শেষের ইঙ্গিত দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
রিপাবলিকান দলের কিছু নেতা কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে। তাদের মতে, ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার জবাব দিতে আরও শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রেসি সেক্রেটারি জানান, প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন মতামত শোনেন ঠিকই, কিন্তু শেষ সিদ্ধান্ত তিনিই নেন এবং তার অবস্থানও তিনিই নির্ধারণ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান শক্তিশালী ও সুসংগঠিত প্রতিপক্ষ, দ্রুত ফলাফল পাওয়া সহজ নয়। যুদ্ধের সামরিক ফলাফল যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত হিসাব, যা হোয়াইট হাউসের ভেতরই তীব্র আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।