তবে এই যুদ্ধকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থান ও লক্ষ্য ভিন্ন হওয়ায় এর পরিণতি নিয়েও রয়েছে নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ।
যুক্তরাষ্ট্র
Donald Trump প্রশাসনের লক্ষ্য কিছুটা অস্পষ্ট। কখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, কখনো ইসরায়েলের সব দাবি মানতে চাপ সৃষ্টি, আবার কখনো ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন—এমন বিভিন্ন অবস্থানে দেখা গেছে তাদের।
টানা হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হলেও দেশটি এখনো আত্মসমর্পণ করেনি। ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় পারমাণবিক আলোচনা এগোলেও মিসাইল কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্রদের (হুতি, হিজবুল্লাহ) সমর্থন বন্ধে রাজি নয় তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র চাইবে—ইরানে এমন একটি সরকার আসুক, যা শান্তিপূর্ণ ও তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিকল্প হিসেবে তারা চায় ইরান আচরণে পরিবর্তন আনুক। তবে নতুন নেতৃত্বে কট্টর অবস্থান বজায় থাকার ইঙ্গিত মিলছে।
এদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি, Strait of Hormuz-এ উত্তেজনা এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও চাপ বাড়ছে।
ইরান
ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চায়, তবে নিজেদের শর্তে। ওয়াশিংটনের সব দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে নয় তারা।
ভৌগোলিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকা ইরান জানে, হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব খাটিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তাদের দাবি—ভবিষ্যতে আর হামলা না করার নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। যদিও বাস্তবে এসব পাওয়া কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে ইরানের জন্য বড় বিষয় হলো—তারা যদি এই সংঘাতে টিকে থাকতে পারে, সেটিকেই ‘বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরবে সরকার ও Islamic Revolutionary Guard Corps।
ইসরায়েল
Israel এই যুদ্ধে তাড়াহুড়ো করে শেষ চায় না। তাদের লক্ষ্য ইরানের মিসাইল, সামরিক ঘাঁটি ও কমান্ড কাঠামো যতটা সম্ভব ধ্বংস করা।
Benjamin Netanyahu সরকারের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও মিসাইল সক্ষমতা দেশটির অস্তিত্বের জন্য হুমকি।
তাই তারা চায়—ইরান বুঝুক, ভবিষ্যতে পুনর্গঠন করলেও আবার হামলার ঝুঁকি থাকবে।
উপসাগরীয় দেশগুলো
Saudi Arabia, United Arab Emirates, Qatarসহ উপসাগরীয় দেশগুলো শুরুতে যুদ্ধ সমর্থন না করলেও এখন নিজেরাই হামলার শিকার হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলা সরাসরি তাদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এতে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কের আস্থা ভেঙে পড়ছে।