সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পাকিস্তানে বৈঠকে বসছেন বলে শনিবার (২৮ মার্চ) জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের মধ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার ও সোমবার ইসলামাবাদে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে উত্তেজনা কমানোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ‘গভীর আলোচনা’ হবে। এই বৈঠকের আয়োজন করছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী মন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফেরও বৈঠকের কথা রয়েছে।
বৈঠকের আগে শেহবাজ শরিফ জানান, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিস্তারিত ফোনালাপ করেছেন। তিনি বলেন, তিনি ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ও তুলে ধরেছেন। আর এর লক্ষ্য সংলাপের পথ তৈরি করা।
শেহবাজ শরিফের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
এদিকে রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকটি মূলত তুরস্কে হওয়ার কথা ছিল বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াদেফুল বলেছেন, খুব শিগগিরই পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি বৈঠক হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবের জবাব ইসলামাবাদের মাধ্যমে পাঠিয়েছে তেহরান। যদিও তারা প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কথা অস্বীকার করছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানো এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকানোর প্রচেষ্টার মধ্যেই ইসলামাবাদে এই আঞ্চলিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এই বৈঠককে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে দেখছেন। সংকট সমাধানে একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে সংলাপ ও কূটনীতিকেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। একই সঙ্গে দার পৃথকভাবে সৌদি ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক করছেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। এতে আশা করা হচ্ছে, যুদ্ধ বন্ধে একটি মধ্যপন্থা খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। তবে পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় এই প্রক্রিয়া সহজ হবে না।
অবশ্য সবার নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে। এখানে কোনও সমঝোতা গড়ে উঠতে পারে কি না এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।