আইআরএনএ ও ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, হামলায় দূরপাল্লার ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি অত্যন্ত বিধ্বংসী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন। বিশেষ করে বাহরাইনে মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা দ্বিতীয়বারের মতো ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরান আলোচনার জন্য সদিচ্ছা দেখাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে ১০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে ১৫ দফা সংবলিত একটি ‘অ্যাকশন লিস্ট’ পাঠানো হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক জবাব তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠিয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে শর্ত দিয়েছে, যে ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধ হবে, ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানো হবে।
যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে ইসরাইলের ভেতরেও রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ সতর্ক করেছেন, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের সক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল ছাড়াই একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধে ঠেলা হচ্ছে।
এরই মধ্যে, বৃহস্পতিবার ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ডার আলী রেজা তাংসিরিসহ কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পাল্টা জবাবে ইরানের ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে দুইজন নিহত হয়েছে এবং সৌদি আরব ও কুয়েতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বর্তমানে দুই পক্ষই আলোচনার টেবিলে থাকলেও মাঠপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: হুরিয়েত ডেইলি নিউজ