সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি স্থগিত করেন এবং দাবি করেন, দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার ১৫টি পয়েন্টে অগ্রগতি হয়েছে। তবে ইরান এই আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও তা থামানো কঠিন। বিশেষ করে সংঘাত এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য উত্তেজনাও বড় আকার নিতে পারে। হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়ে ইরান ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রও কঠোর সামরিক অবস্থান নিয়েছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান কিছুটা উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত দেয়। তবে তার বক্তব্যে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে তিনি শান্তির কথা বলছেন, অন্যদিকে হামলার প্রস্তুতি বজায় রেখেছেন। এ কারণে তার ঘোষণাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অর্থনৈতিক কারণও এর পেছনে থাকতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং প্রধান সূচকগুলো এক শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক তেলের দামও কমেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প সময় কিনতে চাইছেন। কারণ, সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য মার্কিন বাহিনী এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। খার্গ আইল্যান্ড বা হরমুজ প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখলের মতো অভিযান চালাতে আরও সময় লাগতে পারে।
ইরানও অবস্থানে কঠোর। দীর্ঘ হামলার পর দেশটি আরও আপসহীন হয়ে উঠতে পারে। শীর্ষ নেতৃত্বে ক্ষয়ক্ষতির কারণে কঠোরপন্থীদের প্রভাব বাড়ার শঙ্কা রয়েছে, যা আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শর্তগুলোও বড় বাধা। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ত্যাগের দাবি তেহরানের জন্য গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সাম্প্রতিক হামলা তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ট্রাম্পের বিকল্পগুলো সীমিত হবে। হামলা বাড়ালে পরিস্থিতি অনিশ্চিত হবে, স্থলবাহিনী মোতায়েন করলে রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়বে। আবার হঠাৎ যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ালে মিত্র দেশগুলো নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প এমন এক সংকটে পড়েছেন, যেখানে সহজ কোনো সমাধান নেই। যুদ্ধ চালানো বা থামানো—দুইটাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: সিএনএন