বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে নিহতের ছেলে আবু হুরায়রা বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোকছেদুল হাসান মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আবেদনে আসামি করা হয়েছে হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এসএমএফ নিরব হোসেন, ডা. সিরাজুল, ওয়ার্ডবয় শহিদ, আশিক, সামিউল, মশিউর রহমান লাভলুসহ হাসপাতালের ব্যবস্থাপক, সহকারী ব্যবস্থাপক ও অভ্যর্থনা কর্মকর্তা জুনায়েদকে।
এজাহারে বলা হয়, অসুস্থ হয়ে পড়লে জিন্নাত আলীকে প্রথমে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার চিকিৎসক তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠান। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে হাসপাতালটির করোনারি পরিচর্যা ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওয়ার্ডবয় শহিদ রোগীর হার্টে সমস্যা নেই উল্লেখ করে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র খালি নেই। পরে তিনি বেসরকারি হৃদয় জেনারেল হাসপাতালে শয্যা খালি থাকার কথা বলে সেখানে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। আসামিদের পরামর্শে রোগীকে সেখানে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, হৃদয় হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয়ের অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে তিনি বাবাকে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত রোগীকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ সময় তাকে মারধর এবং রোগীর চিকিৎসা বন্ধ রাখারও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ধারদেনা করে টাকা পরিশোধ করে রোগীকে আবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালটির দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, রোগীর যথাযথ চিকিৎসা হয়নি। পরে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে জিন্নাত আলীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অভিযোগ করতে গেলে বাদীকে মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।